যুদ্ধোত্তর ইরাক পুনর্গঠনে জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘ ছয় বছর পর ডিসেম্বরে উপসাগরীয় দেশটিতে পুনরায় দূতাবাস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আপাতত দক্ষিণ বাগদাদের পাঁচ তারকা হোটেল আল-রাশিদ হোটেলে বাংলাদেশ মিশনের কাজ চলবে। ইরাকে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ কামালউদ্দিন ও একজন শ্রম কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে দূতাবাসের কাজ চালাবেন।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর হামলা জোরদার করার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে দূতাবাস গুটিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে বেশ কয়েকটি বন্ধ মিশন চালু এবং নতুন মিশন খোলার সিদ্ধান্ত নেয়, যার অন্যতম হচ্ছে ইরাক।
এ বছরের মাঝামাঝি সময় ইরাকে জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে একটি প্রতিনিধিদল যুদ্ধবিধ্বস্ত উপসাগরীয় দেশটি সফর করে। দেশে ফিরে তারা সুপারিশ করে, ‘গ্রিন জোন’ বা নিরাপদ এলাকা বলে পরিচিত বাগদাদের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি করা সম্ভব। অতিসম্প্রতি প্রথম আলোকে এ কথা বলেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানসচিব ইলিয়াস আহমেদ। তিনি বলেন, এ বছরের মাঝামাঝি ইরাকে জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে প্রতিনিধিদলটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক সফর করে। তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন জোন বলে পরিচিত এলাকার অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশের লোকজনের কর্মসংস্থানের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে ওই এলাকায় লোকজনের কাজের সুযোগের ওপর আমাদের মনোযোগ সীমিত রাখতে চাই।’
বৈদেশিক কর্মসংস্থানসচিব জানান, সরকার এরই মধ্যে ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ইরাকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
সরকার গত ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ পররাষ্ট্র ক্যাডার সার্ভিসের ’৭৩ ব্যাচের কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামালউদ্দিনকে ইরাকে সে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়।
মোহাম্মদ কামালউদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতির সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুদ্ধোত্তর ইরাকে ব্যাপক পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাভাবিকভাবেই অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজে প্রয়োজন হবে প্রচুর শ্রমিকের। আর এ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ।
মোহাম্মদ কামালউদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরাকের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স সাদি আল তায়ি তিন মাস আগে ঢাকায় এসে তাঁর দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাজ ফের শুরু করেন। সে ক্ষেত্রে আমাদেরও খুব শিগগির বাগদাদে কাজ শুরু করার বাধ্যবাধকতা এসে যায়।’
কবে নাগাদ তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের কাজ শুরু করবেন জানতে চাইলে কামালউদ্দিন বলেন, ‘আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই আমি ও শ্রম কর্মকর্তা বাগদাদে যাব।’
তবে ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কূটনীতিকেরা এ মুহূর্তে ইরাকে জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনা কতটা নিরাপদ, সে সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, ইরাকে এখনো সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তাই বাগদাদের গ্রিন জোনের পরিবর্তে সরকারের উচিত উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তানের ওপর মনোযোগ দেওয়া। ইরাকের কুয়েত আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ২০০৩ সালের মার্চে বাগদাদ মিশন বন্ধ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কুয়েত যুদ্ধ শেষে ২০০৩ সালের মে মাসে আবার বাংলাদেশ মিশন চালু হয়। কিন্তু ইরাকে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর হামলা জোরদার করা হলে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ দূতাবাস পুরোপুরি গুটিয়ে ফেলা হয়। ওই বছরেরই দ্বিতীয়ার্ধে ঢাকায় তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয় ইরাক।
Ref. URL: http://prothom-alo.com/detail/date/2009-11-23/news/21313
| < পূববর্তী |
|---|























