বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গতকাল বুধবার প্রথমবারের মতো এক হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করেছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে এক হাজার তিন কোটি ডলার।প্রবাসী-আয়ের উচ্চপ্রবাহ ও আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমেই বেড়ে চলেছিল।আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের একটি ঋণ-সহায়তা পাওয়ার ফলে রিজার্ভ এক হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করে গেল।
বিরাট অঙ্কের রিজার্ভ দেশের ছয় মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম।এ প্রসঙ্গে গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এক সংবাদ বিফিংয়ে বলেন, ‘রিজার্ভ বাড়ার মধ্য দিয়ে আমাদের অর্থনীতির ভিত আরও মজবুত হলো।’
গভর্নর বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সব সময় এ রকম মুহূর্ত আসে না।
আতিউর রহমান আরও বলেন, রিজার্ভ এক হাজার কোটি ডলার হওয়ার বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘ব্যবসায় আস্থা বাড়ছে। সামনের দিনগুলোয় বিনিয়োগ চাঙা হয়ে উঠবে।’
এ সময় ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী ও মুরশিদ কুলী খান উপস্থিত ছিলেন।
অবশ্য দেশে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় আমদানি ব্যয়ও সেভাবে বাড়ছে না। এটি রিজার্ভ ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখতের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেশি থাকলে তা অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। কারণ, হঠাত্ কোনো বাড়তি বিদেশি দায়দেনা মেটাতে হলে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো চাপ সৃষ্টি হবে না। আবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও অর্থনীতির ওপর একটা আস্থা স্থাপন করতে পারে।’
তবে জায়েদ বখত এও বলেন, কী কারণে রিজার্ভ বেড়েছে, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু প্রবাসী আয় বাড়া নয়, আমদানি কম হওয়ায়ও রিজার্ভ বাড়ার একটি কারণ। আর তাই এতে খুব বেশি খুশি হওয়ার অবকাশ নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট আমদানি ব্যয় বেড়েছিল মাত্র চার শতাংশ যেখানে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল ২৬ শতাংশ।
আর চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি ব্যয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই সময়কালে সিঅ্যান্ডএফ ভিত্তিতে আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।
অবশ্য লেনদেনের ভারসাম্যের সারণিতে এফওবি হিসেবে সমন্বয় করায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়কালে আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৯৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৪ কোটি ডলার।
মূলত আমদানি ও রপ্তানি দুই-ই হ্রাস পাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি কমে গেছে। তবে রপ্তানির তুলনায় আমদানি কমেছে অনেক বেশি।বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জায়েদ বখত বলেন, ‘আমদানি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো, দেশের ভেতর বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের শ্লথগতি। অবকাঠামোগত সমস্যা ও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট বিনিয়োগে মন্দা তৈরি করেছে। আর তাই বিনিয়োগে গতিময়তা না আনলে উচ্চ-রিজার্ভ নিয়ে বেশি উত্সাহিত হওয়ার কিছু নেই।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে শিল্প কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খোলা কমে গেছে প্রায় সাড়ে ১৪ শতাংশ। আর মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে মাত্র পৌনে নয় শতাংশ।
বিআইডিএসের এই অর্থনীতিবিদ আরও মনে করেন, উচ্চ রিজার্ভ মুদ্রা সরবরাহের ওপরও কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে, যা আবার মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে।
Ref. URL: http://prothom-alo.com/detail/date/2009-11-12/news/18735
| < Prev | Next > |
|---|























