রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী জোগান দিয়ে সংযোগ শিল্প হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে প্লাস্টিক খাত। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর ৪০০ কোটি ডলারের প্লাস্টিক পণ্য ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে এটি অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে পরিণত হয়েছে।আর এই খাতে ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে । সরকারের নীতিসহায়তা পেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে প্লাস্টিক খাত।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত প্লাস্টিক শিল্প খাত নিয়ে এক জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি জাফর ওসমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ কর্মশালায় শিল্পসচিব দেওয়ান জাকির হোসেন বিশেষ অতিথি ছিলেন। বক্তব্য দেন ইউএনএসকাপের অর্থনৈতিকবিষয়ক কর্মকর্তা ড. মাসাতো অ্যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সহযোগী অধ্যাপক শেখ মোরশেদ জাহান ও প্রভাষক সাইফ নোমান খানের রচিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘খসড়া শিল্পনীতি-২০০৯ অচিরেই চূড়ান্ত করা হবে। দেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্প খাত হিসেবে প্লাস্টিক খাত চূড়ান্ত শিল্পনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্ব পাবে। এ খাতের বিকাশ হলে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান হবে ও দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করবে।শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে শিল্পায়ন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে না। দেশের মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি) ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে শিল্প খাতের অবদান ছিল ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। তা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে। ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। শিল্প খাতে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশ হবে। শিল্প খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ কাজ সম্ভব হবে।
স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি জাফর ওসমান বলেন, পশ্চাত্মুখী সংযোগ শিল্প হিসেবে প্লাস্টিক খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখছে। বর্তমানে দেশের তিন হাজারের বেশি প্লাটিক শিল্পকারখানায় ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় প্লাস্টিক শিল্প খাত প্রতিবছর চার হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য বিদেশে রপ্তানি করছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক খাত উচ্চমানের পণ্য উত্পাদন করে থাকে। এর মধ্যে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার উচ্চমানের প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। তিনি প্লাস্টিক শিল্পের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা দেশের প্লাস্টিক শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি এ খাতের টেকসই উন্নয়ন ও রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকারকে নীতিসহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
Ref. URL: http://prothom-alo.com/detail/date/2009-11-20/news/20518
| Next > |
|---|























