বাংলাদেশের মাত্র চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পর্যায়ে যোগাযোগ শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত যোগাযোগ শিক্ষার সুযোগ খুবই অপ্রতুল। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর বিজ্ঞান বইয়ে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ শিরোনামে একটি অধ্যায় আছে। সেখানে তথ্য, যোগাযোগ মাধ্যমের বিবর্তন পরিচিতি এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে এ সম্পর্কে কোনো অধ্যায় নেই। অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বইয়ে দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অধ্যায়ে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি হিসেবে কিছু যোগাযোগ প্রযুক্তির উল্লেখ আছে। নবম শ্রেণীর মাধ্যমিক সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে সংবাদ আদান-প্রদান অধ্যায়ে যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছু ধারণা দেওয়া হয়েছে।
ওই পাঠ্যবইগুলোয় কোথাও তথ্যপ্রবাহের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভাব বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই। যোগাযোগ শিক্ষার মানবিক দিকটি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে যোগাযোগ শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই।
হাল আমলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম শিল্পের ব্যাপক বিকাশ এবং গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়টি একেবারে খালি চোখে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে এ শিল্পে নিয়োজিত কিছু তরুণ-তরুণীর কার্যকর ভূমিকা এই শিল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ অনেক বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের প্রত্যাশা ও নির্ভরতা। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগের বহুমাত্রিক প্রভাব এবং উপযোগিতা সম্পর্কে আমরা এখনো উদাসীন। এ অবস্থার উন্নয়ন দরকার। আমরা চাই যোগাযোগের উপযোগিতার সার্বিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে। আগামী দিনের বাংলাদেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে তথ্যপ্রবাহের অংশীদার করতে হলে যোগাযোগ শিক্ষার বিস্তার করতেই হবে।
বর্তমান দুনিয়ায় সামাজিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো যোগাযোগ শিক্ষা। তাই তৃতীয় শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সামাজিক বিজ্ঞান বা সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে যোগাযোগ প্রযুক্তির পাশাপাশি যোগাযোগের সামাজিক, অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্যসহ সব শাখার শিক্ষার্থীর জন্য একটি আলাদা বিষয় হিসেবে যোগাযোগ শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও যোগাযোগ কোর্স চালু করা যেতে পারে। এতে করে যে সব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা নিতে চায় তারা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েই কিছুটা ধারণা নিতে পারবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর যোগাযোগ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা শেষে কিছু শিক্ষার্থী কলেজ বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাদানের সঙ্গে জড়িত হতে পারবে। সর্বোপরি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যোগাযোগ শিক্ষা স্থায়ী বুনিয়াদ লাভ করবে; যার মাধ্যমে দেশ, সমাজ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।
শিক্ষানীতি চূড়ান্তকরণ এবং পরবর্তী সময়ে কারিকুলাম প্রণয়নে যাঁরা জড়িত থাকবেন, তাঁরা কি বিষয়টির দিকে নজর দেবেন?
শেখ মিনহাজ শামীম, সহকারী ব্যবস্থাপক, পিকেএসএফ, ঢাকা।
Ref. URL: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2009-10-25/news/14703
| Next > |
|---|























