সরকারি সড়কের ওপর পার্শ্ববর্তী বাসাবাড়ির নর্দমার পানি ফেলা এবং দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাকা সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জনসাধারণ সড়ক দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহালেও কর্তৃপক্ষ সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের জেনারেল ওসমানী সড়ক থেকে রাজনপুর হয়ে মাইজগাঁও সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সড়কের পাশের টিলার ওপর অবস্থিত বাড়িগুলোর নর্দমার পানি সড়কের ওপর ফেলার কারণে সড়কের কার্পেটিং নষ্ট হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা পশুসম্পদ হাসপাতাল, সৈয়দ আফরোজ ফিরোজ একাডেমি ও কাছিম আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সড়কের সামনের অংশে বড় বড় গর্ত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনসাধাণের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার থেকে ফেরিঘাট সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী উপজেলার প্রধান ওই সড়কটি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। সড়কটি প্রতিরক্ষা দেয়াল দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হলেও ওই কাজটি শেষ করা হয়নি। উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে ও আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের অংশে গর্তের সৃষ্টি হওয়ার কারণে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলো অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে চলাচলকারী যাত্রীদেরও পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
ফেঞ্চুগঞ্জ পূর্ববাজার ডাকবাংলো সড়কের সামনে একটি অংশ দীর্ঘদিন থেকে পাকা না করার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে থাকে। পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এ অংশটি মারাত্মকভাবে দেবে গেছে। বর্ষাকালে বাজারের এই অংশে কোমর সমান পানি থাকে। বন্ধ হয়ে যায় সরাসরি যান চলাচল। এ ছাড়া ডাকবাংলোর সামনে লঞ্চঘাট এলাকায় সামান্য রাস্তা পাকা না করায় বর্ষাকালে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে যায়। সড়কটি পাকা না করায় ক্ষুব্ধ জনতা গত বছর ভাদ্র মাসে সড়কের কর্দমাক্ত অংশে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
পালবাড়ী-জেটিঘাট সড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলার লোকজন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যাতায়াত করে থাকে। এ ছাড়া সরকারি বেসরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রে কর্মরত লোকজন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। পালবাড়ী-জেটিঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে থাকে।
মাইজগাঁও-সার কারখানা সড়কটি ফেঞ্চুগঞ্জে সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার যানবাহন চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। এ সড়ক দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, মোশাহিদ আলী মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী এবং এশিয়ার প্রাচীনতম ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা চলাচল করে থাকে। এ সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পুরান বাজার ও মাইজগাঁও রেল ক্রসিংয়ের সম্মুখে গর্তের সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা থাকে। এতে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলো ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করে। মাইজগাঁও-বিয়ালীবাজার সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পুরাগাঁও এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আযাদ কাজী বলেন, সড়কের ওপর বিভিন্ন বাসাবাড়ির ময়লা পানি ফেলার কারণে সেসব বাসাবাড়ির মালিকদের নোটিশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকে নর্দমার পানি সড়কের ওপর ফেলা বন্ধ করে দিয়েছে। যারা এখনো নর্দমার পানি ফেলা বন্ধ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা সম্পর্কে ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহিরুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সড়কগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। সড়কগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছি।’
উপজেলা প্রকৌশলী কামালউদ্দীন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এলজিইডির আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মাপজোখের কাজ শেষ হয়েছে। অচিরেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
Ref. URL: http://prothom-alo.com/detail/date/2009-11-15/news/19342
| < Prev |
|---|























