বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি—বেলা পাহাড়-টিলা কাটার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সক্রিয়। পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে। নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরিবেশের ক্ষতিসাধিত হয়, এমন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিজেদের উদ্যোগে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। শুধু তা-ই নয়, বরং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ দেওয়া ও মামলা করা হচ্ছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বেলার নানামুখী পদক্ষেপ সিলেটের পরিবেশকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে প্রশংসিতও হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় বেলাকে শেষ ভরসা বলে বিবেচনা করছেন অনেকে।
বেলার সিলেটের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আয়েশা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা সুস্থ পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরিবেশ এবং প্রতিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জনগণকে সচেতন করছি। অবৈধভাবে পাহাড়-টিলাগুলো কেটে প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। বেলা ইতিমধ্যেই পাহাড়-টিলাগুলো রক্ষার্থে জনস্বার্থমূলক বিভিন্ন মামলা করেছে এবং ইতিবাচক রায়ও পেয়েছে। ভবিষ্যতে বেলা সিলেট জেলায় অবস্থিত সকল পাহাড়-টিলাগুলো রক্ষার্থে সম্মিলিতভাবে একটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আমার বিশ্বাস, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা থাকলে এ কাজটি আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’
পাহাড় ও টিলা কাটায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইদানীং কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আশঙ্কাজনক হারে অবৈধভাবে পাহাড় ও টিলা কেটে নষ্ট করছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এসব পাড়ার-টিলা একটি এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের সবার মনে রাখা উচিত, প্রতিবেশের কোনো একটি উপাদানের ক্ষতিসাধিত হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশ কোনো একটি কারণে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোনোভাবেই এটাকে আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাটির অণুজীবের ক্ষতিসাধিত হয়, বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী তাদের আবাসস্থল হারায় এবং জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।’
Ref. URL: http://prothom-alo.com/detail/date/2009-11-15/news/19337
| Next > |
|---|























