জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে, সে জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয়, দায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলো।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক সুইডেন সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য আমরা যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছি, সে জন্য যেন আন্তর্জাতিক তহবিল গড়ে তোলা হয়—আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ আহ্বান জানিয়েছি।’ একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। মোল্যা জালাল উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বাড়লে দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল এলাকা ডুবে যাবে। এ জন্য নদ-নদীগুলো ড্রেজিং এবং নদীর পাড় উঁচু করে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে।
এ সম্পর্কিত সম্পূরক এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটু উন্নয়ন করলে পুরো বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে।’ শাহিন মনোয়ারা হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধী ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের জন্য জেলাভিত্তিক বিশেষ স্কুল প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।’
শেখ হাসিনা জানান, এরই মধ্যে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য শিল্পের উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ, অটিস্টিক শিশু ও ব্যক্তিদের জন্য সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে সোয়াক ও সুইড শেল্টার হোম এবং ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা; উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে প্রতিবন্ধীদের জন্য নিরাময়কেন্দ্র ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথকভাবে আরও তিনটি মুক বধির বিদ্যালয় এবং একটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের জন্য ছয়টি বিভাগে ছয়টি প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। শাহিন মনোয়ারা হকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধীদের ভর্তি পরীক্ষায় বিশেষ সময়ের প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের সাংসদ আবদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি যানবাহনে ভাড়া মওকুফ করা যেতে পারে।
গোলাম ফারুক খন্দকারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিকীকরণের জন্য ‘জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০০৯’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া এরই মধ্যে প্রণীত হয়েছে এবং সরকারের কাছে তা পেশ করা হয়েছে। শিক্ষানীতির বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়ার জন্য খসড়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০০৯ গৃহীত ও বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী ও আধুনিক হবে।’
এ ছাড়া স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা, প্রাথমিক স্তরে সমাপনী পরীক্ষা পদ্ধতি চালু, সব শিক্ষার্থীর জন্য নিজ নিজ ধর্ম শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ নানামুখী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। গোলাম ফারুক খন্দকারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাঁরা উচ্চ ডিগ্রি পান, তাঁরা গ্রামে থেকে শিক্ষকতা করতে চান না। শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করতে যে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা আমরা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকেরা ভালো বেতন না পেলে তাঁরা মনোযোগী হন না। আমরা প্রাথমিক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। শিক্ষকদের মর্যাদা যেন রক্ষা পায়, সে ব্যবস্থা আমরা করব। সরকারি বেতন-ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ঠিক করা হবে।’
Ref. URL: http://prothom-alo.com/detail/date/2009-10-29/news/15698
| < Prev |
|---|























