ঝিনাইদহের বেড়াশুলা গ্রামে চলছে শীতকালীন সবজি চাষ। মাঠের পর মাঠ শুধু সবজি আর সবজি। মরিচ, লাউ, শিম আবার কোথাও কপি বা পটলের ক্ষেত। বছরের বার মাসই চলে এ গ্রামে মৌসুমী সবজি চাষ। বেড়াশুলা গ্রামের ৯০ ভাগ মানুষই গত ১০ বছর ধরে সবজি চাষের সাথে জড়িত। চাষ হচ্ছে প্রায় ২শ’ বিঘা জমিতে। স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে এখানকার খেতে না পাওয়া মানুষগুলো। লাভজনক এই চাষ ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও।
ঝিনাইদহ সদর হতে ১৯ কিলোমিটার পশ্চিমে মধুহাটি ইউনিয়নের বেড়াশুলা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার মানুষ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে সবজি চাষ করে। নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ সবারই ছুটে চলছে মাঠের দিকে। কথা হয় বেড়াশুলা গ্রামের কৃষক কালু মিয়ার সাথে। তিনি জানান, ২৫ কাঠা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। বৈশাখ মাসে চারা রোপণের পর ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে আষাঢ়ের শুরুতেই মরিচ তুলতে শুরু করেছেন। এক বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ করে ৪০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন।
একই গ্রামের সেলিম মিয়া জানান, এবার গ্রামের মাঠে ৪ কাঠা জমিতে লাউ রোপণ করেছিলেন। ইতিমধ্যে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন।
কৃষক মতিয়ার রহমান। আগে তার চায়ের দোকান ছিল, মাঝে মাঝে দিন মজুর খাটতেন পরের ক্ষেতে। এখন তিনি শিম, লাউসহ সবজি চাষ করে কয়েক বছরের ব্যবধানে পাকা ঘর তুলেছেন, তিন বিঘা জমি কিনেছেন।
মতিয়ার রহমান অভিযোগের সাথে বলেন, এত ভাল সবজি চাষ হলেও কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা ভুলেও এলাকায় আসেন না। তাই চাষের ক্ষেত্রে পোকা-মাকড়, ওষুধপত্র দেয়া নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়।
সবজি চাষে বগুড়ার সিভিডিপি পলী উন্নয়ন একাডেমী কৃষকদের নানা ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি ও বীজ সরবরাহ করা, প্রতিমাসে প্রশিক্ষণে পাঠানো, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কৃষকদের লব্ধ জ্ঞান সরাসরি মাঠে কাজে লাগানো, বিভিন্ন কৃষি কোম্পানির মাধ্যমে সার বীজ দেয়ার কাজটি তারা করছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বেড়াশুলা গ্রামের সবজি চাষ সম্পর্কে বলেন, এখানকার কৃষকরা পরিশ্রমী। তাছাড়া সবজি চাষ সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকায় খুব ভাল করছে তারা। কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না করার ব্যাপারটি তিনি অস্বীকার করেন।
-আব্দুর রহমান মিল্টন, ঝিনাইদহ
Ref. URL: http://www.ittefaq.com/content/2009/11/01/news0384.htm
| < Prev | Next > |
|---|























