কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ (এমএমই) অধিক কর্মসংস্থান সহায়ক বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলতি অর্থবছরের পরবর্তী ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মুদ্রানীতি প্রণয়নের আগে প্রথমবারের মত মুদ্রানীতি বিশ্লেষকসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সূত্র জানায়, আজ সোমবার থেকে মুদ্রানীতি নিয়ে মতামত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আজ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতি নিয়ে নিজেদের কাজ প্রায় শেষ করেছে। সকলের মতামত গ্রহণ শেষেই বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি চূড়ান্ত করবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আমি চাই সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়ে মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে। এর জন্যই সরকারি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্যাংকসহ মুদ্রানীতি বিশ্লেষকদের মতামত নেয়া হচ্ছে। আশা করছি সকলের মতামত নিয়ে মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হলে তা আরো কার্যকর হবে। দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত করতেই এ উদ্যোগ। সকলের মতামত নিয়ে প্রণীত হতে যাওয়া আগামী মুদ্রানীতি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত গড়তে সহায়তা করবে।
সূত্র জানায়, নতুন মুদ্রানীতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে অর্থবছরের দ্বিতীয় ছয় মাসের জন্য ‘সংকুলানমুখী’ মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্ব অর্থনৈতিক মহামন্দার হাত থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষার কৌশল এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে থাকছে নানামুখী কর্মসূচি। বিশেষ করে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শ্রমঘন শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে নয়া মুদ্রানীতিতে। তবে নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ ও ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগযোগ্য বিরাট অংকের অলস টাকাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। যার ফলে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি কত ঘটবে তা প্রাক্কলন করা কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত টাকা থাকার ফলে এই মূল্যস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কীভাবে অভ্যন্তরীণ খাতকে চাঙ্গা রাখা যায় তারও ব্যবস্থা থাকবে। অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হবে বলেই প্রাক্কলন করা হচ্ছে।
এছাড়া সুদের হার কমানো, উৎপাদনমুখী খাতগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য সহায়তা বাড়ানো, এমএমই ও কৃষি খাতে বরাদ্দকৃত ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
।। আব্দুল কাইয়ুম তুহিন ।।
Ref. URL: http://www.ittefaq.com/content/2009/11/16/news0748.htm
| < Prev |
|---|























