মাঠে মাঠে আগাম আমন ধান পাকছে। ফসলের নতুন গন্ধে কৃষক পরিবার মাতোয়ারা। নবান্নের এই আনন্দ সব কৃষক পরিবারের নয়। মাঠে এখন রয়েছে রোপা আমন ধান। এ বছর দেরিতে বৃষ্টি, বন্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম, ভেজাল সার, কীটনাশকের জন্য রোপা আমন ধান তেমন ভাল হয়নি।
রোপণের প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় আমরা ছিলাম সমস্যায়। এ এলাকার অধিকাংশ কৃষক গরীব হওয়ার কারণে তারা জমিতে পানি দিয়ে আমন চাষ শুরু করতে পারেনি। তাই নাবিতে হয়েছে রোপা আমনের চাষ। আগাম আমন ধান ওঠা শুরু করলেও রোপা আমন ধান ওঠার এখনও বেশ দেরি। কোন কোন অঞ্চলে ধানের দুধ আসছে, কোন অঞ্চলের ধান শক্ত হতে শুরু করেছে। কিন্তু এই সময় জমিতে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। মাঠ পানির জন্য ফেটে আছে চৌচির হয়ে। এদিকে বৃষ্টির কোন পূর্বাভাসও আমরা পাচ্ছি না। এই মৌসুমে বৃষ্টি হওয়ার কোন সম্ভবনাও নেই। রোপা আমনে কৃষক এবার সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের রোপা আমন মৌসুমটা বেশ ঝক্কিঝামেলার মধ্যে চলছে। সারা দেশে ভেজাল সার ছেয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নিম্নমানের সার এনে তাতে আবার ভেজাল মেশানো হচ্ছে। এই সার একটু কম দাম পাবার ফলে সহজ-সরল কৃষক তা ব্যবহার করছে জমিতে। যার ফলে ওই সার জমিতে দিলে জমির ধানগাছ তার খাবারতো পাচ্ছেই না বরং উল্টো আরও ক্ষতি হচ্ছে। একেই বুঝি বলে গোদের উপর বিষ ফোঁড়া।
রোপা আমনে এবার পোকা - মাকড়ের আক্রমণও বেশি। ক্ষেতের পর ক্ষেত উজার করে দিচ্ছে মাজরা পোকায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কথামত বাজার থেকে কীটনাশক এনেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। জমিতে কীটনাশক ছিটিয়েও পোকা দমন করা যাচ্ছে না। শুধু আমার গ্রাম উত্তর পালরদী নয়, গৌরনদীর বিস্তৃর্ণ এলাকার কৃষকদের এই সমস্যা। যতদূর জানি, গোটা দেশের অধিকাংশ জেলাগুলোতেই ভেজাল সার আর কীটনাশকে ভরে গেছে। আমার গ্রামের অনেক কৃষকেরই ভেজাল সার ও ভেজাল কীটনাশক তাদের রোপা আমানের ক্ষেতে দিয়ে লাভ তো হয়নি বরং উল্টো ক্ষতি হয়েছে।
সরকার কৃষকদের জন্য নানা কৃষিবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সারের দাম, ডিজেলে ভর্তুকিসহ বোরো মৌসুমে ভাল ফলনের জন্য সরকারের এতসব ব্যবস্থা। কিন্তু এরপরও সবকিছু সরকারের ভেসে- যাবে যদি ভেজাল সার আর কীটনাশকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে।
-মোঃ আহছান উলাহ, কৃষক, গৌরনদী, বরিশাল
Ref. URL: http://www.ittefaq.com/content/2009/11/08/news0573.htm
| < Prev | Next > |
|---|























