Developmentbd.com

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size
Home >> Food and Agriculture >> Steps Should Be Taken >> উপকরণ সুবিধাই কাঙ্ক্ষিত ফলনের বড় নিয়ামক

উপকরণ সুবিধাই কাঙ্ক্ষিত ফলনের বড় নিয়ামক

E-mail Print PDF

কৃষক সময়মত উপকরণ সুবিধা পেলে কৃষি উৎপাদন বাড়ে। বহুভাবেই এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার মানে কৃষক মূলত আটকে থাকে উপকরণ সংকটে। জলবায়ুর পরিবর্তনের এই সময়ে প্রকৃতি যেভাবে বৈরি হয়ে উঠছে তাতে সঠিক সময়ে উপকরণ ও প্রযুক্তি পৌঁছে না দিতে পারলে কৃষক কৃষি উৎপাদনের স্বাভাবিক হিসেবে কুলিয়ে উঠতে পারবে না।

সরকারকে ধন্যবাদ, কারণ তারা কৃষকের কাছে ন্যায্যমূল্যে উপকরণ পৌঁছে দেয়ার প্রশ্নে দারুণ আন্তরিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে কৃষক বহুলাংশে আশাবাদী হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দফায় নন ইউরিয়া সারের দাম কমলো। সারের মূল্য দৃষ্টান্ত মূলকভাবে কমিয়ে দেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সময় উপযোগী ও বাস্তবমুখি সিদ্ধান্ত এর মধ্য দিয়ে কৃষকের চাহিদার খুব কাছাকাছি সরকারের নিবিড় দৃষ্টিপাতের পরিচয়ও পাওয়া যায়। পরিবর্তিত হিসাব অনুযায়ী কেজি প্রতি ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ৪০ টাকা থেকে ২২ টাকা, মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ৩৫ থেকে ২৫ টাকা এবং ডায়া এ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ৪৫ থেকে ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। ডিলার পর্যায়েও সুনির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ডিলারদের সীমিত ও নির্ধারিত লাভ করার সুস্পষ্ট তাগিদ। গত সোমবার থেকে নতুন মূল্যে সার কেনার সুযোগও পাচ্ছেন কৃষকরা। দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি নতুন মূল্য তাদের যথেষ্টই স্বস্তির কারণ হয়েছে। আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে তাদের মধ্যে জেগেছে দারুণ আশাবাদ। চলতি আমন মৌসুমের শুরুতেই কৃষক এবার সংকটে পড়েছিল। বিশেষ করে এবার দেরিতে বৃষ্টি হওয়া এবং নীচু এলাকাগুলোতেও বন্যা না হওয়া দেশের ৬০ ভাগ এলাকায় আমন রোপণ প্রায় এক মাস পিছিয়ে যায়। আমন মৌসুমেও সেচ হয়ে পড়ে অপরিহার্য। সেই প্রতিকূল অবস্থাও মোকাবিলা করে কৃষক আমনে কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করছেন বেশির ভাগ জেলায়। সংশিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের হিসাব অনুযায়ী এবার আমন মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ লাখ হেক্টর জমিতে। কিন্তু অনাবৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক নানা কারণেই আবাদ হয় ৫২ দশমিক ৩৭ হেক্টরে। সার্বিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ কোটি ২৪ লাখ ৯২ হাজার মেট্টিক টন। কৃষি বিভাগসহ সংশিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী চলতি আমন মৌসুমে উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত হিসাব ২০ থেকে ৩০ ভাগ হেরফের হয়েছে। অর্থাৎ উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম হচ্ছে। কিন্তু এই হার আমন মৌসুমের শুরুর দিককার আশংকার তুলনায় অনেকটাই কম। এটি সম্ভব হয়েছে উপকরণের প্রশ্নে সরকারের আন্তরিক তৎপরতা।

নন ইউরিয়া সারের দ্বিতীয় দফা মূল্য কমিয়ে এবার সরকার অতিরিক্ত পাঁচ’শ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যের ভেতর দিয়ে সরকারের যে উদ্দেশ্যের কথা জানা যায়, তা হচ্ছে সরকার কৃষককে ইউরিয়ার ব্যবহার কমিয়ে সুষম সার ব্যবহারে উৎসাহিত করতে চায়। ফলন বাড়ানোর ক্ষেত্রে নন ইউরিয়া সারের ভূমিকাই বড়। বর্তমান আন-র্জাতিক বাজারেও নন ইউরিয়ার মূল্য কমেছে, কিন্তু দেশে মজুত ১ লাখ ৭৬ হাজার মেট্টিক টন টিএসপি, ১ লাখ ৪৯ হাজার মেট্টিক টন এমওপি এবং ২৯ হাজার মেট্টিক টন ডিএপি সার বেশি দামে কেনা। এসব সারের মূল্য সমন্বয় করতেই সরকার অতিরিক্ত এই ভর্তুকি দিচ্ছে। গত বছর এই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নন ইউরিয়া সারের মূল্য ছিল অস্বাভাবিক রকমের বেশি। তখন শুধু সারের কথা চিন্তা করেই কৃষকদের মধ্যে দারুণ উদ্বেগ তৈরি হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই গত ১৪ জানুয়ারি নন ইউরিয়া সারের দাম অর্ধেকে নামিয়ে আনে। সেটিও ছিল যুগান্তকারী এক উদ্যোগ। যার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।

তবে কৃষকরা বলছেন, ইউরিয়া সারের মূল্য কমানোর কথা। তারা বলছেন, সরকার যতই বলুক ইউরিয়ার ব্যবহার কমিয়ে আনার কথা, কিন্তু কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইউরিয়ার অপরিহার্যতাকে গৌণ করে দেখার কোন সুযোগ নেই। গুটি ইউরিয়া কিংবা লিফ কালার চার্ট ব্যবহারের মাধ্যমে ইউরিয়ার ব্যবহার কমানো যেতে পারে কিন্তু তারপরেও যে পরিমাণ ইউরিয়া লাগবে তার অর্থ যোগাতেই কৃষকদের নাভিঃশ্বাস উঠে যাবে। দেশে সারা বছরের সারের চাহিদা ৪২ লাখ টন। এর মধ্যে ইউরিয়াই ২৯ লাখ টন। অর্থাৎ মোট সারের চাহিদার বারো আনা জায়গা দখল করে আছে ইউরিয়া। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সারের মূল্যও অনেকটাই কমতির দিকে। সেই হিসেবে সরকার যদি ইউরিয়ার মূল্য কিছুটা কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে তা হবে বর্তমান সময়ের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ। সেই সঙ্গে সেচের দিকেও সরকারের নিবিড় দৃষ্টি প্রত্যাশা করছি। ইতোমধ্যে সরকার ডিজেলে ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, সেচ খাতে ভর্তুকির সুফল কৃষক পায় না। বিষয়টি সরকারেরও নোটিশে আছে। ইতোমধ্যে কৃষক পর্যায়ে ভর্তুকির সুফল পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকার কার্যকর চিন্তা ভাবনা করছে বলেও আমরা জেনেছি। তবে সরকারকে যে দিকটি বিশেষভাবে ভাবতে হবে, তা হচ্ছে সেচের পানির অপচয় রোধ করে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, শুধুমাত্র পর্যাপ্ত সেচের অভাবে দেশ প্রতি বছর ১৫ লাখ টন খাদ্যশস্য থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ ১ কেজি ধান উৎপাদনে এদেশের কৃষকরা ব্যয় করে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার পানি। অপচয় হয় ১ থেকে দেড় হাজার লিটার। এই অপচয় রোধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। সেচ নিয়ে আগামীতে কৃষক যাতে কোন বিপর্যয়ের মধ্যে না পড়ে সে জন্য এখনই নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ। আবার প্রারম্ভিক কথায় ফিরে গিয়ে বলছি, কৃষক যদি উপকরণ পায় তাহলে কাঙ্ক্ষিক কৃষি উৎপাদন সে ঠিকই নিশ্চিত করতে পারবে। সরকার যদি বিনিয়োগ হিসেবে নিয়ে কৃষি ভর্তুকির গতি অব্যাহত রাখে তাহলে কৃষকই পারবে যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে।

ন্তব্য প্রতিবেদন

- শাইখ সিরাজ

Ref. URL: http://www.ittefaq.com/content/2009/11/08/news0568.htm

 

Advertisement

Ntv
Sheltech
Immigration
Gplex
Primer Bank
Sel
Pran Foods
Sydney
Banglar Fashion
LiveOutsource
24hourscall
Mozilla Firefox

Bookmark and Share


More Informations

Bangla Font Problem

Advertisement

Boromela

Bddl

Bridging