জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই মেয়ে ও তাঁদের সন্তানদের আজীবন নিরাপত্তা বিধানে ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন-২০০৯’ গতকাল মঙ্গলবার সংসদে পাস হয়েছে। আইন অনুসারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ও তাঁদের সন্তানেরা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা পাবেন।
একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। তাঁর জীবিত দুই মেয়ে ওই সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।
স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে গতকাল আইন প্রণয়ন কার্যাবলির শুরুতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়। এর আগে বিগত সপ্তম সংসদের শেষ দিকে ২০০১ সালের ২০ জুন জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা বিল-২০০১ সংসদে পাস করা হয়। এরপর বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসেই অষ্টম সংসদে ২০০১ সালের ২ ডিসেম্বর বিলটি রহিত করে।
বর্তমান বিলে বলা হয়েছে, জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে সরকার নির্ধারিত শর্তে ওই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসনের ব্যবস্থা করবে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা দেবে।
বিলে বলা হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) অধ্যাদেশ, ১৯৮৬ সালের অধীন ভিআইপির জন্য যে নিরাপত্তাব্যবস্থা বলবত্ রয়েছে, জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের আজীবন সে রকম নিরাপত্তা সর্বত্র দেওয়া হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠাকল্পে আজীবন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল এ দেশের গরিব-দুঃখি-মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।
এই মহান স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাঙালি জাতির প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু যখন দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিত্সার মতো মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা বিধানে একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন, তখন মানবতার শত্রু ও স্বাধীনতা যুদ্ধের পরাজিত শক্তি এবং তাদের দেশি-বিদেশি দোসরদের সহায়তায় হীন চক্রান্তের মাধ্যমে জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে হত্যা করে মানব ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের সূচনা করে। এই চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার পরিবারের অন্য জীবিত সদস্যদের একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এখনো ওই চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রের কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় বিধায় এ সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
Ref. URL: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2009-10-14/news/12047
| < Prev |
|---|























