দেশের ৩০ শতাংশ শিশু চরম দারিদ্র্যের শিকার। এদের ৪৫ শতাংশ আবার নিরঙ্কুশ দরিদ্র। দরিদ্র শিশুদের অধিকাংশই বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের। শহরের চেয়ে গ্রামের শিশুরা বেশি দরিদ্র ও বঞ্চনার শিকার।
গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশে শিশু দারিদ্র্য ও বৈষম্য-বিষয়ক গবেষণায় এসব তথ্য প্রকাশ করে ইউনিসেফ। অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের নেতৃত্বে হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (এইচডিআরসি) এ প্রতিবেদন তৈরি করে।
আবুল বারকাত গতকাল এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এর আগে গবেষণা প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমিন চৌধুরী।
গবেষণায় বলা হয়, দেশে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত মোট শিশুর সংখ্যা ছয় কোটি ৩০ লাখ। অনূর্ধ্ব চার বছর বয়সী ৫৮ শতাংশের বেশি শিশু দৈনিক এক মার্কিন ডলারের কম আয়ের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। এ ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের অবস্থা নিতান্তই অনিশ্চিত। এ থেকে বোঝা যায়, বয়স বাড়ার পাশাপাশি শিশু বঞ্চনার তীব্রতাও বাড়ে।
গবেষণায় আবাসন, পয়োনিষ্কাশন, পানি, তথ্য, খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এ সাতটি নির্দেশকের আলোকে শিশু বঞ্চনা পরিমাপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় দেখানো হয়েছে, প্রায় ৬৪ শতাংশ শিশু পয়োনিষ্কাশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ৪১ শতাংশ শিশু আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আট শতাংশ শিশু শিক্ষা ও পয়োনিষ্কাশনের ক্ষেত্রে চরম বঞ্চনার মধ্যে দিন কাটায়। ১৬ শতাংশ শিশু স্বাস্থ্যসুবিধা থেকে বঞ্চিত। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিশু, অর্থাত্ প্রায় ৫২ শতাংশ তথ্যের সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত। টেলিভিশন, বেতার, কম্পিউটারসহ কোনো যোগাযোগ মাধ্যমেই তাদের কোনো প্রবেশের সুযোগ নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী অর্ধেক শিশু খর্বকায় ও ৪০ শতাংশ শিশু কম ওজনের। প্রায় ১৫ শতাংশ শিশু শীর্ণতায় ভুগছে। শহরের চেয়ে গ্রামের শিশুরা অনেক বেশি খর্বকায় ও কম ওজনের। পুষ্টির দিক দিয়েও পিছিয়ে আছে গ্রামের শিশুরা।
গবেষণায় বলা হয়, শিক্ষিত মায়ের সন্তানেরা অপেক্ষাকৃত কম দারিদ্র্যের শিকার হয়। গবেষণার সুপারিশে পরিস্থিতি পরিবর্তনে পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিশুর সুরক্ষা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রধান ক্যারেল ডি রয় বলেন, বাংলাদেশে শিশু দারিদ্র্যবস্থা একটি গভীর সমস্যা। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর একটা বড় অংশ শিশুদের সঙ্গে সম্পর্কিত। শিশুদের প্রতি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দিলে সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য কমিশনার আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আলতাফ আলী প্রমুখ।
Ref. URL: http://prothom-alo.com/detail/date/2009-11-26/news/21943
| Next > |
|---|























