জাতীয় শিক্ষানীতিতে কিছু পরিবর্তন আনার দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে স্মারকলিপি দিয়েছে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ইসলামী শিক্ষা রক্ষা জাতীয় কমিটি।
কমিটির দাবির মধ্যে আছে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য থেকে ‘সেক্যুলার ও গণমুখী’ শব্দ বাদ দেওয়া, ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে ধার্মিকতা ও নৈতিকতাবোধ, ইংরেজির পাশাপাশি আরবি ভাষা শিক্ষা সংযোজন প্রভৃতি। শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের বলেছেন, শিক্ষানীতিতে ধর্ম ও মাদ্রাসাশিক্ষার পরিপন্থী কোনো কিছুই থাকবে না।
জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মুহিউদ্দিন খানের নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখানে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীকে বিভিন্ন সুপারিশ সংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
জাতীয় কমিটি মোট ১২টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে আছে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে ‘ললিতকলা’ বিষয়ের বদলে ‘ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষা’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে ললিতকলার বদলে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীতে অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে ললিতকলার বদলে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান প্রতিস্থাপন।
নবম ও দশম শ্রেণীতে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে ধর্ম ও নৈতিকতা অন্তর্ভুক্তিরও সুপারিশ করেছে কমিটি।
নারীশিক্ষার কৌশল-৭ জেন্ডার স্টাডিজ ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়টি মাধ্যমিক স্তর থেকে বাতিল করে দেওয়ার সুপারিশও করেছে জাতীয় কমিটি। নারীশিক্ষার উন্নয়নের জন্য মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে উত্সাহিত করারও দাবি জানায় কমিটি। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে মানবিক বিভাগে অর্থনীতির বদলে ইসলামী অর্থনীতি পড়ানোরও সুপারিশ করেছে কমিটি।
মতবিনিময় শেষে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মুহিউদ্দিন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পৃথিবীতে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কিছুই নেই। এটি একটি অবাস্তব শব্দ, যা মূলত ধর্মহীনতার নামান্তর।’
সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, জাতীয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ মাদ্রাসাশিক্ষার পরিপন্থী কোনো বিষয় শিক্ষানীতিতে থাকবে না। শিক্ষানীতি হবে সর্বজনীন, কর্মমুখী ও যুগোপযোগী। জাতির বৃহত্তর কল্যাণে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সত্, দেশপ্রেমিক, দক্ষ ও যোগ্য মানুষ তৈরির শিক্ষানীতি হবে এটি। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ধাপে ধাপে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বাস্তবায়নের যেকোনো পর্যায়ে এ নীতিমালা সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
শিক্ষাসচিব সৈয়দ আতাউর রহমান, যুগ্ম সচিব (কারিগরি) কে এম মোজাম্মেল হক, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইউসূফ মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন।
Ref. URL: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2009-11-09/news/18259
| Next > |
|---|























