Developmentbd.com

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size
Home >> Residence and Tourism >> Steps Should Be Taken >> ঝুঁকিপূর্ণ আট ভবনে কয়েক শ পরিবারের বাস

ঝুঁকিপূর্ণ আট ভবনে কয়েক শ পরিবারের বাস

E-mail Print PDF

‘জরুরি সতর্ক বাণী। এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বি-৩৪/এইচ ভবনটি সরকার কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ভবনে বসবাস এবং এর আশপাশ দিয়ে চলাফেরা না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। নির্দেশক্রমে নির্বাহী প্রকৌশলী মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগ।’

রাজধানীর মতিঝিলের এজিবি কলোনির পুরোনো ও পরিত্যক্ত আটটি ভবনের সামনে বড় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে এভাবেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে মানুষকে। কিন্তু এর কোনো তোয়াক্কা না করে অনেক কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন ভবনগুলোতে। অনেকে ভাড়া দিয়েও থাকছেন। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালীদের কয়েকজন ভবনগুলোর অনেক কক্ষ ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পানি, বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিল পরিশোধ করছে সরকার।

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কেন বসবাস করছেন—এই প্রশ্নের জবাবে ৩৫ নম্বর ভবনের নিচতলায় বসবাসরত রিকশাচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। থাকার জায়গা নাই। তাই এখানে আছি।’

এজিবি কলোনির বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, সেখানকার ১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৮৫ ও ৯৭ নম্বর ভবন সরকার প্রায় চার বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৩৪ ও ৩৬ নম্বর ভবনে ৩৯টি বরাদ্দপ্রাপ্ত পরিবার এখনো বাস করছে। অন্য ভবনগুলোর বাসিন্দাদের অন্যত্র বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৩৪ ও ৩৬ নম্বর ভবনে প্রায় ৬৬টি ফ্ল্যাটে বহিরাগতরা বসবাস করছেন।

৩৫ নম্বর ভবনের ভাড়াটে মোস্তাক ফকিরাপুলে একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বলেন, ওই ভবনের একটি কক্ষ তিনি দেড় হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছেন। ওই ভাড়ার টাকা তিনি চৈতির আব্বা নামের একজনকে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান ওরফে নিজাম, বাবু ও আবুল কালামসহ আরও কয়েকজন ভবনগুলোর কক্ষ ভাড়া দিয়ে মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা আদায় করছেন। ভবনগুলোর প্রাঙ্গণে রাতে বসে মাদকের আসর। চলে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মশিউর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, কেউ তাঁর নাম বিক্রি করে ভাড়া আদায় করতে পারে। তিনি বলেন, অনেকে অন্যত্র বরাদ্দ পাওয়ার পরও ওই ভবনগুলোতে বসবাস করছেন। অন্যরা বহিরাগতদের ভাড়া দিয়েছেন। ৩৪ নম্বর ভবনের বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুম জানান, তাঁদের অন্যত্র বরাদ্দ না দিয়ে সরকার ভবন থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে। এ কারণে ওই ভবনের বাসিন্দা মোস্তফা, আবু মিয়া, আনসার আলী ও কাজল হাইকোর্টে পৃথক চারটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। তাঁদের দাবি, অন্যত্র বরাদ্দ দেওয়ার পর তাঁদের উচ্ছেদ করতে হবে।

প্রতিটি ভবনের গায়ে লেখা রয়েছে, ‘মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলা ৩১১৫/০৬। যেকোনো প্রকার উচ্ছেদ/হয়রানি না করার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলবত্ রয়েছে। এইচ টাইপ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।’

এজিবি কলোনির কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, ভবনগুলো নির্মিত হয়েছে ১৯৫৫-৫৬ সালের দিকে। ২০-২৫ বছর ধরে সংস্কার না করায় এগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

ওই কলোনিতে কর্মরত গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম শাখার কার্যসহকারী তোফায়েল আহমেদ জানান, পরিত্যক্ত ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দাকে অন্যত্র ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনেকের ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুত্ বিল বকেয়া থাকায় তাঁদের নতুন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (মতিঝিল) নুরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বহুবার অবৈধ বাসিন্দাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়েছে। এক দিক দিয়ে উচ্ছেদ করলে আরেক দিক দিয়ে ঢুকে পড়ে। প্রায়ই পানি, বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভবনগুলো ভেঙে সেখানে নতুন ১৬ তলা ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Ref. URL: http://prothom-alo.com/detail/date/2009-11-20/news/20567

 

Advertisement

Ntv
Sheltech
Immigration
Gplex
Primer Bank
Sel
Pran Foods
Sydney
Banglar Fashion
LiveOutsource
24hourscall
Mozilla Firefox

Bookmark and Share


More Informations

Bangla Font Problem

Advertisement

Boromela

Bddl

Bridging