সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের চাঁদপুর খাসপুকুরপাড়ের প্রায় ৩০০ মানুষের দিন কাটে উচ্ছেদ আতঙ্কে। জীবন-জীবিকার সঙ্গে লড়াই করার পাশাপাশি তাদের লড়তে হয় স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গেও।
৭ নভেম্বর সরেজমিনে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে চাঁদপুর গ্রামে অবস্থিত ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ৯ বিঘা পুকুরের চারপাশে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ভূমিহীনেরা ঘর তুলে বসবাস শুরু করে। এখন সেখানে ৫০টি পরিবারের প্রায় ৩০০ মানুষ বসবাস করছে। এদের মধ্যে ভোটারই রয়েছে ১৫০ জন।
এপাড়ার রজব আলী (৫০) বলেন, ‘নিজের জায়গা-জমি না থাকায় প্রায় ২৫ বছর আগে এখানে এসে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেছি। এমনিতেই সমস্যার শেষ নেই। তার ওপর স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঘর তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এপাড়ার মানুষের ঘরে বিদ্যুত্ সংযোগ নেই, ভালো পায়খানার ব্যবস্থা নেই, জীবিকার নির্দিষ্ট উপায় নেই। পাড়ার বেশির ভাগ ছেলেমেয়ে পড়ালেখার সুযোগ পায় না। এ জন্য এখানকার মেয়েদের ১২ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে বিয়ে হয়ে যায়। ফলে তারা নিজেরা যেমন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি জন্ম দেয় অসুস্থ ও অপুষ্ট শিশু। এপাড়ার পুরুষদের মূল পেশা মাছ ধরা, কৃষি কাজ করা ও ভ্যান-রিকশা চালানো। যে পুকুরপাড়ে তারা বসবাস করে, তা প্রতিবছরই লিজ নেয় স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। ফলে তাদের মাছ ধরতে যেতে হয় অন্য কোনোখানে।
ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত এপাড়ার সমস্যার ব্যাপারে মেম্বর বাহাদুর আলী বলেন, ‘আমার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে পাড়ার লোকজনের দেখভাল করার চেষ্টা করি।’
ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, যারা ওই খাসপুকুর পাড়ে বসবাস করছে, তাদের বৈধ কোনো অনুমতি নেই। তার পরেও তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। উপজেলা ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর খাসপুকুর পাড়ে ভূমিহীনেরা বসবাস করলেও তারা স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন করেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, দরখাস্ত পেলে এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) এলাকার সাংসদ গাজী ইসহাক হোসেন তালুকদার বলেন, ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Ref. URL: http://prothom-alo.com/detail/date/2009-11-22/news/20901
| < Prev | Next > |
|---|























